জনতার প্রতিধ্বনি

জনগণের কণ্ঠস্বর

ডা. কামরুল ইসলামকে আশ্বস্ত করলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা

প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনা কালের কণ্ঠে প্রকাশের পর তার হাসপাতালে ছুটে গেছেন যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। 

তারা ঘটনায় জড়িত মো. মঈন উদ্দিন মঈনসহ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১২ এপ্রিল) গভীর রাতে তারা রাজধানীর শ্যামলীতে ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে গিয়ে এ কথা জানান।এসময় ডা. কামরুল ইসলাম যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে কালের কণ্ঠের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রশংসা করেন।

এর আগে সিকেডি হাসপাতালে সাবেক যুবদলের সাবেক নেতা মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির খবর প্রকাশিত হয়।প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম নিরলস মানবসেবার জন্য দেশজুড়ে খ্যাতির পাশাপাশি পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক।প্রায় ১৯ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করা এই অধ্যাপকের অস্ত্রোপচারে সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে পান স্বাধীনতা পদক।

গত বছরের মধ্যভাগে তার হাসপাতালের ওপর নজর পড়ে শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের। তার নেতৃত্বে একটি চক্র প্রায় এক বছর ধরে চাপ ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছিল।অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, গত জুলাই-আগস্টের পর থেকেই বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করছে চক্রটি। কখনো ভয়-ভীতি দেখানো, কখনো আবার রাজনৈতিক প্রভাব সামনে এনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি জিডিও করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কালের কণ্ঠের হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত একজনকে বারবার ধমক দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।শুধু তাই নয়, ভেতরে ঢুকে সৃষ্টি করেছেন আতঙ্ক। হুমকি দেওয়া এই ব্যক্তিই মঈন উদ্দিন মঈন। তার চাঁদাবাজির চক্রের আরেক সদস্য হলেন মাঈনুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবারের সরবরাহ কেন্দ্র করেই মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের সাবেক নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে দিয়ে টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চক্রটি। এরপর থেকেই চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা অজুহাতে চাপ সৃষ্টি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়।

এ বিষয়ে জানত চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা অভিযোগের তদন্ত করছেন। সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com