






জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন ‘আপ বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সদস্য সচিব আরেফিন মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে।
একই সঙ্গে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, লিগ্যাল সেল সম্পাদক মাহফুজসহ কয়েকজন নেতা।
আজ রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব নেতাদের যোগদানের তথ্য জানান দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ যারা যুক্ত হয়েছে তারা ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই লক্ষ্যে কাজ করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাই মিলে কাজ করব।
বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন যুক্ত নেতারা কে কোন দায়িত্ব পালন করবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নতুন কর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। কেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসি টিভি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং ট্রেজারি থেকে যেসব শিক্ষক, কর্মচারী প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবে তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর controller@dhakaeducationboard.gov.bd ই-মেইলে প্রেরণের অনুরোধ করা হলো।নির্দেশনা অনুযায়ী, রবিবার অফিস সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠাতে হবে।বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুপুরের মধ্যে সিলেট জেলার ওপর দিয়ে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতও হতে পারে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানা গেছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের সই করা এক সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, দুপুরের মধ্যে সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে এই দমকা হাওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাতের শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিলেটের নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।আবহাওয়া অফিসের আরেক বার্তায় বলা হয়েছে— রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

দেড় শ বছরের পুরনো বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়ায় গিয়ে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেন।
সবশেষ ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পৌরসভার চার পাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে বগুড়া পৌরসভার আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেসময় ১২টি ওয়ার্ড থেকে ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয় বগুড়া পৌরসভা।
পৌরসভাকে বৃহৎ আকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল সেসময়। কিন্তু সরকারের নানা জটিলতার কারণে বগুড়া পৌরসভা আর সিটি করপোরেশন হয়নি। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে বার বার সিটি করপোরেশনের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোসনা আফরোজা বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাব দেন। এরপর এক চিঠিতে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
পরে গত বছরের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন এসে জানান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু পরে আর সেটিও হয়নি।এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ আটটি উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রবিবার প্রাক-নিকার (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সচিব কমিটির সভা হয়। সেখানে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন উন্নীতকরণের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সরকারের নতুন দর অনুযায়ী, আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম কার্যকর হয়েছে।এতে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা বৃদ্ধি হয়ে বিক্রি হবে ১১৫ টাকায়, প্রতি লিটার কেরোসিন ১৮ টাকা বৃদ্ধি হয়ে বিক্রি হবে ১৩০ টাকায়, প্রতি লিটার পেট্রল ১৯ টাকা বৃদ্ধি হয়ে বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায় এবং প্রতি লিটার অকটেন ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হবে ১৪০ টাকায়।
দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর রাত থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার বেশ কিছু পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্টেশনে তেল নেই বলে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু পাম্পে স্বাভাবিক সরবরাহ থাকলেও যানবাহনের সারি ছিল কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ।রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাউদান পাম্পে এক বিড়ম্বনাপূর্ণ চিত্র দেখা যায়। সাধারণত তেল ফুরিয়ে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে মাইকিং করার নিয়ম থাকলেও, দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর মাত্র ১০ মিনিটের নোটিশে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাম্পে মজুত থাকার পরও বিক্রি বন্ধ রাখায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ শুরু করতে বাধ্য হয় পাম্প কর্তৃপক্ষ।তেল নিতে আসা সাধারণ চালক ও ভোক্তারা বলছেন, দাম বাড়ালেও সংকট কাটবে কি না, তা নিয়ে তারা সংশয়ে আছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষার এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান তারা।
ভোক্তাদের মতে, বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে সরকারের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন করে বিয়ের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের গাজীবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চরমথুরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজীর ছেলে মহিম উদ্দিন রুবেলের সঙ্গে দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে রিমা আক্তারের ২০২৪ সালে ১৪ আগস্ট ইসলামী শরিরাহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর রুবেল প্রবাসে চলে যান। গত কয়েক মাস পূর্বে দেশে ফিরে আসেন এবং এক পর্যায়ে স্ত্রী রিমা আক্তারের শারীরিক অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দেন।
এরই মধ্যে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রুবেলের পুনরায় বিয়ের দিন ধার্য করে তার পরিবার। এই সংবাদ পেয়ে রুবেলের আগের স্ত্রী রিমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বর রুবেলের বাড়িতে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মারামারি বাধে। এক পর্যায়ে ঘরের ভেতরে থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে অন্তত সাতজন আহত হয়।
আহতের মধ্যে রিমা আত্তার, তার মা কোহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাত ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগম। এর মধ্যে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়। এ ছাড়া রুবেলের পরিবারের কয়েকজন আহত হয়।
রিমা আক্তার বলেন, ‘রুবেল প্রায় চার মাস পূর্বে দেশে ফিরে আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে আসে। কয়েক দিন পূর্বে আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে এসে আর খোঁজখবর নেয়নি। শুনেছি সে আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে, যা সঠিক নয়। আজ (শনিবার) সে আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আমি আমার পরিবারের সদস্যরা এলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের বেশ কয়েকজনকে বেদম পিটিয়ে আহত করেছে।’
অন্যদিকে মহিম উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘রিমা শারীরিকভাবে অক্ষম। তাই গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দিয়েছি। আজ আমি আবার বিয়ে করতে রওনা হওয়ার মুহূর্তে আমাদের বাড়িতে তারা প্রবেশ করে হামলা করে। আমাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়।’
এদিকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জেনেছি। তবে এই বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি।’

কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং লিবিয়ায় মারা যাওয়া ৩৪ প্রবাসী বাংলাদেশির দেহ দেশে পৌঁছেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আলাদা ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে আসে। তাদের সবার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।
দেশে পৌঁছানো মরদেহের মধ্যে কুয়েত থেকে ৩০ জন, মালয়েশিয়া থেকে ২ জন এবং লিবিয়া থেকে ২ জন প্রবাসী আছেন।
মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে দাফন ও অন্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া মৃত প্রবাসীদের পরিবার অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বীমার পাওনা পাওয়ার যোগ্য হলে তা দ্রুততম সময়ে দেওয়া হবে।
স্বজনের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে নজরুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর তার মরদেহটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা বান্ধবী বাংলাদেশি কোহিনুর বেগমকেও হত্যা করা হয়।
নজরুল ইসলাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। নজরুল ২০১৮ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে এভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ছয় বছর আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে একটি খামার গড়ে তোলেন নজরুল। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, এমনকি কুকুর-বিড়ালও পালতেন। এই সাফল্যই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নজরুল। খামারের গরু-ছাগল বিক্রি করে সবকিছু গুছিয়ে নিছিলেন।
নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আগেই জানিয়েছিল, নজরুলের ব্যবসায়ীক অংশীদারের সঙ্গে সমস্যা চলছে। কয়েকবার নাকি তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা বারবার বলেছিলাম, সব ছেড়ে দিয়ে দেশে চলে আসতে। সে বলেছিল, আর কিছুদিন পর সবকিছু গুছিয়ে চলে আসব। এভাবে আমার ভাইকে হারাতে হবে তা কিছুতেই মানতে পারছি না।’
নিহতের ভাগ্নি সাদিয়া ইসলাম মীম বলেন, ‘মামা আমাকে বলেছিল, আমি সব বিক্রি করে দিয়েছি। খুব দ্রুত দেশে ফিরে আসব। তোমার জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসব। সেই কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে। আমরা আর কিছু চাই না, আমার মামা হত্যার বিচার হোক। তার মরদেহ যেন আমরা দেখতে পাই, শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারি।’
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ওসি জেল্লাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনাটি দেশের বাইরে সংঘটিত হয়েছে। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আসেনি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে।’

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে গত ফেব্রুয়ারিতে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।
সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ২২ ফেব্রুয়ারি এক ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত নেয়, ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না মঞ্জুরুল।
এত দিন মঞ্জুরুলের সেই শাস্তি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জাহানারা। তবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুরুলে অন্য সহযোগীদেরও শাস্তি চান। প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুকে দেওয়া শাস্তিও জাহানারার কাছে সামান্য মনে হচ্ছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী জাহানারা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরো অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’
ক্রিকেটে তার মতো আরো যেসব নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তার সহযোগীরা মানসিকভাবে তাকে অত্যাচার করেন।
জাহানারা বলেন, ‘আমাকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তাদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তার এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’
ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে তিনটি দাবিও জানিয়েছেন জাহানারা। (১) মঞ্জু ও তার সহযোগী গ্রুপের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিচার করা। (২) অন্য অঙ্গনের যেসব ক্রীড়াবিদ যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন, তাদের অভিযোগেরও তদন্ত করে বিচার করা। (৩) বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করা।

মানিকগঞ্জের সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতাকে নির্মমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর হত্যাকাণ্ড যেমন সমগ্র জাতিকে শোকাহত করেছে, তেমনি এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের ন্যায়বিচারবোধ, আইনের প্রতি আস্থা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন নায়েমকে তার নিজ পরিবারের পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে—যা আইনের প্রতি আস্থা রাখার একটি ইতিবাচক উদাহরণ। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা সঠিক বিচার চান। একটি সভ্য সমাজে এটাই হওয়া উচিত—অপরাধী যেই হোক, বিচার হবে আইনের মাধ্যমে, প্রমাণের ভিত্তিতে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই ন্যায়বিচারের পথের বিপরীতে আমরা আরেকটি ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে নায়েমের বাবা ও চাচাকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। তার চাচাতো ভাইকেও একইভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়; পুলিশের হস্তক্ষেপে সে প্রাণে বাঁচলেও এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনাগুলো কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের অংশ হতে পারে না—এগুলো নিছক প্রতিশোধ, যা আরেকটি অন্যায়কে জন্ম দেয়।
প্রশ্ন হলো—একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়ায় আমরা যদি আরও কয়েকটি অপরাধকে বৈধতা দিই, তবে আমাদের সমাজ কোন পথে এগোচ্ছে? বিচার কি তাহলে আবেগের ওপর নির্ভর করবে? নাকি গুজব, সন্দেহ ও জনতার রোষই হয়ে উঠবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা?
আইনের শাসন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। একটি শিশুর পরিবার যেমন বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারও সমানভাবে ন্যায়বিচারের দাবিদার। বিচার যদি বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা আর বিচার থাকে না—তা হয়ে ওঠে অন্যায়েরই আরেক রূপ।
এই ঘটনায় একটি ইতিবাচক দিক যেমন আছে—অভিযুক্তকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া—তেমনি একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তাও রয়েছে: জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এটি যদি এখনই রোধ করা না যায়, তবে সমাজে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়বে, যেখানে কোনো মানুষই নিরাপদ থাকবে না।
প্রশাসনের উচিত এই ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা। একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে এবং একইসঙ্গে গণপিটুনিতে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের চোখে সব অপরাধই সমান—এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ন্যায়বিচার কখনোই প্রতিশোধ নয়। এটি একটি প্রক্রিয়া—যেখানে সত্য উদ্ঘাটিত হয়, অপরাধ প্রমাণিত হয়, এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। সেই পথ থেকে সরে এসে যদি আমরা আবেগকে বিচারক বানাই, তবে শেষ পর্যন্ত হারাবে পুরো সমাজই।
এখনই সময়—আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, গুজব ও উত্তেজনা থেকে নিজেকে দূরে রাখা, এবং একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সচেতন হওয়া। কারণ বিচারহীন প্রতিশোধের এই চক্র চলতে থাকলে, তার শিকার একদিন আমরাও হতে পারি।