

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন করে বিয়ের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের গাজীবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চরমথুরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজীর ছেলে মহিম উদ্দিন রুবেলের সঙ্গে দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে রিমা আক্তারের ২০২৪ সালে ১৪ আগস্ট ইসলামী শরিরাহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর রুবেল প্রবাসে চলে যান। গত কয়েক মাস পূর্বে দেশে ফিরে আসেন এবং এক পর্যায়ে স্ত্রী রিমা আক্তারের শারীরিক অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দেন।
এরই মধ্যে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রুবেলের পুনরায় বিয়ের দিন ধার্য করে তার পরিবার। এই সংবাদ পেয়ে রুবেলের আগের স্ত্রী রিমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বর রুবেলের বাড়িতে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মারামারি বাধে। এক পর্যায়ে ঘরের ভেতরে থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে অন্তত সাতজন আহত হয়।
আহতের মধ্যে রিমা আত্তার, তার মা কোহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাত ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগম। এর মধ্যে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়। এ ছাড়া রুবেলের পরিবারের কয়েকজন আহত হয়।
রিমা আক্তার বলেন, ‘রুবেল প্রায় চার মাস পূর্বে দেশে ফিরে আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে আসে। কয়েক দিন পূর্বে আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে এসে আর খোঁজখবর নেয়নি। শুনেছি সে আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে, যা সঠিক নয়। আজ (শনিবার) সে আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আমি আমার পরিবারের সদস্যরা এলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের বেশ কয়েকজনকে বেদম পিটিয়ে আহত করেছে।’
অন্যদিকে মহিম উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘রিমা শারীরিকভাবে অক্ষম। তাই গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দিয়েছি। আজ আমি আবার বিয়ে করতে রওনা হওয়ার মুহূর্তে আমাদের বাড়িতে তারা প্রবেশ করে হামলা করে। আমাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়।’
এদিকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জেনেছি। তবে এই বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি।’

কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং লিবিয়ায় মারা যাওয়া ৩৪ প্রবাসী বাংলাদেশির দেহ দেশে পৌঁছেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আলাদা ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে আসে। তাদের সবার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল।
দেশে পৌঁছানো মরদেহের মধ্যে কুয়েত থেকে ৩০ জন, মালয়েশিয়া থেকে ২ জন এবং লিবিয়া থেকে ২ জন প্রবাসী আছেন।
মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে দাফন ও অন্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া মৃত প্রবাসীদের পরিবার অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বীমার পাওনা পাওয়ার যোগ্য হলে তা দ্রুততম সময়ে দেওয়া হবে।
স্বজনের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে নজরুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর তার মরদেহটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা বান্ধবী বাংলাদেশি কোহিনুর বেগমকেও হত্যা করা হয়।
নজরুল ইসলাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। নজরুল ২০১৮ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে এভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ছয় বছর আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে একটি খামার গড়ে তোলেন নজরুল। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, এমনকি কুকুর-বিড়ালও পালতেন। এই সাফল্যই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নজরুল। খামারের গরু-ছাগল বিক্রি করে সবকিছু গুছিয়ে নিছিলেন।
নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আগেই জানিয়েছিল, নজরুলের ব্যবসায়ীক অংশীদারের সঙ্গে সমস্যা চলছে। কয়েকবার নাকি তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা বারবার বলেছিলাম, সব ছেড়ে দিয়ে দেশে চলে আসতে। সে বলেছিল, আর কিছুদিন পর সবকিছু গুছিয়ে চলে আসব। এভাবে আমার ভাইকে হারাতে হবে তা কিছুতেই মানতে পারছি না।’
নিহতের ভাগ্নি সাদিয়া ইসলাম মীম বলেন, ‘মামা আমাকে বলেছিল, আমি সব বিক্রি করে দিয়েছি। খুব দ্রুত দেশে ফিরে আসব। তোমার জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসব। সেই কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে। আমরা আর কিছু চাই না, আমার মামা হত্যার বিচার হোক। তার মরদেহ যেন আমরা দেখতে পাই, শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারি।’
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ওসি জেল্লাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনাটি দেশের বাইরে সংঘটিত হয়েছে। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আসেনি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে।’

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে গত ফেব্রুয়ারিতে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।
সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ২২ ফেব্রুয়ারি এক ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত নেয়, ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না মঞ্জুরুল।
এত দিন মঞ্জুরুলের সেই শাস্তি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জাহানারা। তবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুরুলে অন্য সহযোগীদেরও শাস্তি চান। প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুকে দেওয়া শাস্তিও জাহানারার কাছে সামান্য মনে হচ্ছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী জাহানারা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরো অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’
ক্রিকেটে তার মতো আরো যেসব নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তার সহযোগীরা মানসিকভাবে তাকে অত্যাচার করেন।
জাহানারা বলেন, ‘আমাকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তাদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তার এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’
ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে তিনটি দাবিও জানিয়েছেন জাহানারা। (১) মঞ্জু ও তার সহযোগী গ্রুপের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিচার করা। (২) অন্য অঙ্গনের যেসব ক্রীড়াবিদ যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন, তাদের অভিযোগেরও তদন্ত করে বিচার করা। (৩) বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করা।

মানিকগঞ্জের সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতাকে নির্মমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর হত্যাকাণ্ড যেমন সমগ্র জাতিকে শোকাহত করেছে, তেমনি এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের ন্যায়বিচারবোধ, আইনের প্রতি আস্থা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন নায়েমকে তার নিজ পরিবারের পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে—যা আইনের প্রতি আস্থা রাখার একটি ইতিবাচক উদাহরণ। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা সঠিক বিচার চান। একটি সভ্য সমাজে এটাই হওয়া উচিত—অপরাধী যেই হোক, বিচার হবে আইনের মাধ্যমে, প্রমাণের ভিত্তিতে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই ন্যায়বিচারের পথের বিপরীতে আমরা আরেকটি ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে নায়েমের বাবা ও চাচাকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। তার চাচাতো ভাইকেও একইভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়; পুলিশের হস্তক্ষেপে সে প্রাণে বাঁচলেও এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনাগুলো কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের অংশ হতে পারে না—এগুলো নিছক প্রতিশোধ, যা আরেকটি অন্যায়কে জন্ম দেয়।
প্রশ্ন হলো—একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়ায় আমরা যদি আরও কয়েকটি অপরাধকে বৈধতা দিই, তবে আমাদের সমাজ কোন পথে এগোচ্ছে? বিচার কি তাহলে আবেগের ওপর নির্ভর করবে? নাকি গুজব, সন্দেহ ও জনতার রোষই হয়ে উঠবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা?
আইনের শাসন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। একটি শিশুর পরিবার যেমন বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারও সমানভাবে ন্যায়বিচারের দাবিদার। বিচার যদি বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা আর বিচার থাকে না—তা হয়ে ওঠে অন্যায়েরই আরেক রূপ।
এই ঘটনায় একটি ইতিবাচক দিক যেমন আছে—অভিযুক্তকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া—তেমনি একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তাও রয়েছে: জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এটি যদি এখনই রোধ করা না যায়, তবে সমাজে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়বে, যেখানে কোনো মানুষই নিরাপদ থাকবে না।
প্রশাসনের উচিত এই ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা। একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে এবং একইসঙ্গে গণপিটুনিতে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের চোখে সব অপরাধই সমান—এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ন্যায়বিচার কখনোই প্রতিশোধ নয়। এটি একটি প্রক্রিয়া—যেখানে সত্য উদ্ঘাটিত হয়, অপরাধ প্রমাণিত হয়, এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। সেই পথ থেকে সরে এসে যদি আমরা আবেগকে বিচারক বানাই, তবে শেষ পর্যন্ত হারাবে পুরো সমাজই।
এখনই সময়—আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, গুজব ও উত্তেজনা থেকে নিজেকে দূরে রাখা, এবং একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সচেতন হওয়া। কারণ বিচারহীন প্রতিশোধের এই চক্র চলতে থাকলে, তার শিকার একদিন আমরাও হতে পারি।

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ কোথাও দেখা যায়নি। ফলে রবিবার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক মোঃ শাহীন হোসেন, প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন মূল্য আগামীকাল রবিবার থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নির্ধারিত দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, যা ১৫ টাকা বৃদ্ধি। কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে—এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৮ টাকা। অকটেনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে; লিটারপ্রতি ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছে, অর্থাৎ ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রভাব এ সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া কৃষিখাতে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, ফলে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও এ কারণে আরো বেড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে এমন চাপ আরো বাড়তে পারে।

দীর্ঘ অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামীকাল রবিবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। এদিন সকাল ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।
অন্যদিকে, হাইকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হবে। ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টের ৬৩টি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। যেখানে ২৯টি একক বেঞ্চ ও ৩৪টি দ্বৈত বেঞ্চ রয়েছে।
২০২৬ সালের ৮৪ নম্বর বেঞ্চ গঠন বিধিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৩০ মিনিট হতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বেঞ্চসমূহ গঠন করা হল।

দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা, জরুরি অগ্নিনির্বাপণ এবং কারাবন্দিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং কারা অধিদপ্তরসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত সব বাহিনীর যানবাহন দেশের যেকোনো পেট্রল পাম্প থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হাফিজ-আল-আসাদ স্বাক্ষরে গত ১৫ এপ্রিল এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, কারাগারের বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে দিনরাত যেকোনো সময় বন্দি স্থানান্তর, অসুস্থ বন্দিকে হাসপাতালে পাঠানো ও দাপ্তরিক কাজে যানবাহন ব্যবহার করতে হয়।
একইভাবে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত টহল ও বিভিন্ন বিশেষ অভিযান পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যানবাহন সার্বক্ষণিক সচল রাখা অত্যাবশ্যক।
এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং কারা অধিদপ্তরের যানবাহনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের সব পেট্রল পাম্পকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় আলোচিত সুকেশ চন্দ্রশেখরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন দিল্লি উচ্চ আদালত। গত ৭ এপ্রিল দেওয়া এই আদেশের পর নতুন মোড় নিয়েছে আলোচিত মামলাটি। এবার অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ তাঁর সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। কারাগারে থেকেও তিনি অভিনেত্রী জ্যাকলিনকে নানা উপহার ও প্রেমপত্র পাঠাতেন বলে একাধিকবার আলোচনায় আসে। শুধু তা-ই নয়, অভিনেত্রীকে উপহার দিয়েছেন হেলিকপ্টার, ইয়টও। তাতেও মন গলেনি প্রেমিকার। এমনকি প্রেমিকার সঙ্গে খুব শিগগির দেখা করার আশ্বাসও দিতেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০০ কোটি রুপির প্রতারণা মামলায় ২০২২ সালের আগস্টে ইডির চার্জশিটে সহ-অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সুকেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও তাঁর কাছ থেকে গয়না, দামি পোশাক, গাড়িসহ প্রায় ৭ কোটি টাকার উপহার গ্রহণ করেছিলেন অভিনেত্রী।
ইডির আরো অভিযোগ, সুকেশ গ্রেপ্তারের পর জ্যাকলিন নিজের ফোন থেকে কিছু তথ্য মুছে ফেলেছিলেন এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর পাসপোর্টও জমা রাখা হয়। পরে প্রায় দুই বছর পর তা ফেরত পান তিনি। তবে এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার ইডি কার্যালয়ে হাজিরা দিতে হয়েছে অভিনেত্রীকে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে একটি বড় প্রতারণামূলক চক্রের যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
তবে জামিন পেলেও এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না সুকেশ। বিভিন্ন স্থানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৩১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টিতে জামিন মিললেও এখনো পাঁচটি মামলা বিচারাধীন।
কয়েক মাস আগেই জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।