নামাজ পড়িয়ে চোরকে ছেড়ে দিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদরাসায় দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে এক যুবক। পরে তাকে শাস্তি না দিয়ে অজু করিয়ে নামাজ পড়ানো এবং ভবিষ্যতে আর চুরি করবে না এমন অঙ্গীকার নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে মাদরাসার দানবাক্স ভাঙার সময় সন্দেহভাজন অবস্থায় আটক করা হয় একজনকে। পরে যাচাই-বাছাই করে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন উপস্থিত লোকজন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক উদ্যোগকে প্রশংসা করছেন আবার কেউ এটিকে সমাজে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা তাকে হাতেনাতে ধরি। পরে হুজুররা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে অজু করিয়ে নামাজ পড়ান এবং ভালো পথে ফেরার উপদেশ দেন। সে ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রোকন সরকার বলেন, ঘটনাটি ভিন্নধর্মী ছিল। সাধারণত এমন ঘটনায় মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে, কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ধৈর্য ও মানবিকতা দেখিয়েছে। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।

মাদরাসার মুহতামিম ইমাম হোসেন মোস্তাফী জানান, আমরা মনে করি শাস্তির চেয়ে সংশোধনই বড় বিষয়। তাই তাকে শারীরিক শাস্তি না দিয়ে আল্লাহর পথে ফেরানোর চেষ্টা করেছি। সে নিজের ভুল স্বীকার এবং আর কখনো চুরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এজন্য আমরা তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছি।

আল্লাহর আনুগত্যে ফেরেশতাদের আত্মসমর্পণ

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

لَا یَسۡبِقُوۡنَهٗ بِالۡقَوۡلِ وَ هُمۡ بِاَمۡرِهٖ یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۷﴾یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ وَ لَا یَشۡفَعُوۡنَ ۙ اِلَّا لِمَنِ ارۡتَضٰی وَ هُمۡ مِّنۡ خَشۡیَتِهٖ مُشۡفِقُوۡنَ 

সরল অনুবাদ : 
‘তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোন কথা বলে না, তাঁর নির্দেশেই তো তারা কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। আর তারা শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করেন যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। তারা তাঁর ভয়ে ভীত।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২৭-২৮)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা : 
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে ফেরেশতাদের কথাই বলা হয়েছে। মূলত আরবের মুশরিকরা ফেরেশতাদের আল্লাহর মেয়ে গণ্য করতো। আর মনে করতো যে, এরা আল্লাহর দরবারে এদের জন্য সুপারিশ করবে। (কুরতুবি, ইবন কাসির) 

এই আয়াতে মুশরিকদের খন্ডন করা হয়েছে। তাদের ধারণা, ফিরিশতারা আল্লাহর কন্যা। কিন্তু আল্লাহ বলেন, তারা আমার কন্যা নয়; বরং তারা আমার সম্মানিত ও আজ্ঞাবহ দাস। তাছাড়া পুত্র-কন্যার প্রয়োজন তখন পড়ে, যখন কেউ বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়। তখনই সন্তানরা তাদের পিতা-মাতাদের সাহায্যকারী হয়। তাই সন্তানদের ‘বার্ধক্যের লাঠি’ বলা হয়। কিন্তু বার্ধক্য, দুর্বলতা, স্থবিরতা এ সব এমন জিনিস, যা মানুষের সাথে সম্পর্কিত, আর আল্লাহ তো এমন সত্তা, যিনি সকল দুর্বলতা ও ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং মহাপবিত্র। সেই জন্য তাঁর সন্তান বা কোন প্রকার সাহয্যের প্রয়োজন নেই। আর ঠিক এই কারণেই কোরআনে বারবার পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, তাঁর কোন সন্তানাদি নেই। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

তারপর আল্লাহ তাআলা বলছেন, ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান হওয়া তো দূরের কথা, তারা আল্লাহর সামনে এমন ভীত ও বিনীত থাকে যে, আগে বেড়ে কোন কথাও বলে না এবং তার আদেশের খেলাফ কখনও কোন কাজ করে না। কথায় আগে না বাড়ার অর্থ এই যে, যে পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো কথা না বলা হয় তারা নিজেরা আগে বেড়ে কথা বলার সাহস করে না। আর মুশরিকরা দুটি কারণে ফেরেশতাদের উপাস্য বানাত। এক. তাদের মতে তারা ছিল আল্লাহর সন্তান। দুই. তাদের উপাসনা করার মাধ্যমে তারা তাদের আল্লাহর কাছে নিজেদের জন্য সুপারিশকারী বানাতে চাচ্ছিল। এ আয়াতে এ দুটি কারণই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। (তাফসিরে জাকারিয়া)

এখান থেকে বুঝা যায়, নেক লোক ও নবীরা ছাড়া ফিরিশতারাও কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। সহিহ হাদিসেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। কিন্তু ঐ সুপারিশ শুধুমাত্র ঐ সব লোকেদের জন্য হবে যাদের আল্লাহ পছন্দ করবেন। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)

শিক্ষা ও বিধান 

১. ফেরেশতারা কখনো আল্লাহর আগে কথা বলে না। বরং তাঁর নির্দেশের অপেক্ষা করে। তাই মানুষেরও উচিত আল্লাহর বিধানের সামনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করা।

২. একজন প্রকৃত মুমিন নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে। এবং তাঁর আদেশ-নিষেধকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিবে।  

৩. আল্লাহ আমাদের সামনে-পেছনে, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ—সব কিছু জানেন। 

৪. কেয়ামতের দিন কেউ ইচ্ছামতো কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। আল্লাহ যাদের প্রতি সন্তুষ্ট, শুধুমাত্র তাদের জন্যই তাঁর অনুমতিতে শাফাআত করা হবে।

৫. ফেরেশতারা, যারা নিষ্পাপ, তারাও আল্লাহর ভয়ে সঙ্কুচিত থাকে। তাই আমাদের আরও বেশি আল্লাহভীরু হওয়া উচিত।

মৃত্যুর আগ-মুহূর্তে মহানবী (সা.) যে দুই দোয়া পড়েছিলেন

মৃত্যু—মানবজীবনের অবধারিত এক চূড়ান্ত সত্য। এই ক্ষণিক পৃথিবীর সব ব্যস্ততা, স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষার শেষে আসে এক নিঃশব্দ বিদায়। কিন্তু সেই বিদায়ের মুহূর্তে একজন মুমিনের হৃদয়ে কী থাকে? কী প্রার্থনা উচ্চারিত হয় তার জিহ্বায়? এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাইতো মহানবী (সা.)-যিনি ছিলেন আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় বান্দা, তিনিও মৃত্যুর কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও উত্তম সঙ্গ কামনা করে দোয়া করেছিলেন। আয়েশা (রা.)-থেকে বর্ণিত, আমি মহানবী (সা.)-কে মৃত্যুর আগে আমার গায়ে হেলান দিয়ে এই দোয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي، وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الأَعْلَى

উচ্চারণ :
‘আল্লাহুম্মাগফিরলি ওরহামনি ওয়া আলহিকনি বিররাফিকিল আলা।
অর্থ :
‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার ওপর রহম করুন এবং আমাকে মহান সাথির সাথে মিলিত করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৪৪৪৭) 

অন্য হাদিসে আয়েশা (রা.)-আরো বর্ণনা করে বলেন, ‘আমি দেখেছি যে, মহানবী (সা.) যখন মৃত্যুমুখে ছিলেন, তখন তার সামনে একটি পাত্র ছিল। তিনি সেটার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে চেহারা মুছছিলেন আর বলছিলেন,

اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى غَمَرَاتِ الْمَوْتِ أَوْ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ

উচ্চারণ :
‘আল্লাহুম্মা আয়িন্নি আলা গামারাতিল মাউতি আও সাকারাতিল মাউতি।’

অর্থ :
‘হে আল্লাহ, মৃত্যুর কষ্ট ও তার বিভীষিকা থেকে আপনি আমাকে রক্ষা করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৪৪৪০, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং :  ৬২৯৩)

হজের বিধান যেভাবে সহজ করা হয়

আবু হুরায়রা (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ভাষণে বললেন, হে মানুষ-সকল, আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ আবশ্যক করে দিয়েছেন, তাই তোমরা হজ আদায় করো। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, হজ কি প্রতিবছর আবশ্যক? নবিজি কোনো উত্তর দেননি। লোকটি পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করল। তখন মহানবী (সা.) বললেন, আমি যদি ‘হ্যাঁ’ বলতাম, তাহলে তোমাদের ওপর প্রতিবছর হজ করা ফরজ হয়ে যেত। তখন তোমরা তা আদায় করতে পারতে না। তোমরা আমাকে (অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে) ছেড়ে দাও, যেভাবে আমি তোমাদের ছেড়ে রেখেছি। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতেরা তাদের নবীকে অতিরিক্ত প্রশ্ন ও তাদের নবীদের ব্যাপারে মতানৈক্যের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আমি তোমাদের কোনো বিষয়ে আদেশ করলে সাধ্যানুযায়ী আমল করার চেষ্টা করবে, আর যদি কোনো বিষয়ে বারণ করি, তাহলে তা থেকে দূরে থাকবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩২৫৭)

শিক্ষা ও বিধান

১. হজ মানব-জীবনে একবারই ফরজ। তবে বারবার হজ পালন মানব-জীবনে রহমত ও বরকত বয়ে আনে। 

২. দ্বীন সহজ, তাই কঠিন করা নিষেধ। কেননা ইসলাম মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপায় দেয় না।

৩. অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন পরিহার করা উচিত।

৪. বনি ইসরাইলসহ পূর্বের উম্মতরা তাদের নবীদের সাথে অতিরিক্ত প্রশ্ন ও বিরোধিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে—এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।

৫. রাসুল (সা.) যা আদেশ করেন, তা সাধ্যানুযায়ী পালন করতে হবে—অলসতা নয়, আবার অতিরিক্ত কঠোরতাও নয়। বরং ইসলামের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

ভোট দিতে পারেনি মীর জাফরের বংশধররা

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি মীর জাফরের বংশধর ও ‘ছোটে নবাব’ হিসেবে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা। যদিও এর আগে মীর জাফরের বংশের ১৫০ জনেরও বেশি সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথম দফায় এদিন মুর্শিদাবাদে ভোট গ্রহণ হলেও সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা, তার ছেলে এবং পরিবারের যে সব সদস্যদের নাম নেই, তারা ভোট দিতে পারেননি।

এক প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা বলছে, মুর্শিদাবাদের লালবাগের ‘কেল্লা নিজামত’ এবং তার আশপাশের অঞ্চলে বাস করেন মীর জাফরের বংশের সদস্যরা।

তবে তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ভোটার তলিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে অনেককেই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল এবং সেখানে তারা সব নথিপত্র জমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও তারা ভোট দিতে পারেনি।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৩৭ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার জোহর বারুর স্তুলাং লাউত এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্রে অভিযান চালায় দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গভীর রাতে চালানো এই অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে জোহর অভিবাসন বিভাগের একটি বিশেষ দল।

দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্য এবং নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জোহর অভিবাসন পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুশদি মোহাম্মদ দারুস।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মূলত অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ এবং আশ্রয় দেওয়ার সন্দেহে ওই কেন্দ্রটিতে তল্লাশি চালানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৬ জন থাই নারী, ৩ জন ভিয়েতনামি নারী, ২ জন ফিলিপিনো নারী এবং ১ জন ফিলিপিনো পুরুষ রয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার বলছে, আটক পুরুষদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি, ৩ জন পাকিস্তানি, ৩ জন ইন্দোনেশীয়, ৪ জন চীনা এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৫৩ বছরের মধ্যে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা ওই বিনোদন কেন্দ্রে কাস্টমার সার্ভিস অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযান চলাকালে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত এক মালয়েশীয় নাগরিককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। 

মোহাম্মদ রুশদি জানান, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে জনসাধারনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

দুদকের কবজায় বেক্সিমকোর ৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ

বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ সংশ্লিষ্ট সাত হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় রয়েছে। দুদকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এখন পর্যন্ত মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুদক ১১টি এবং সিআইডি ১৭টি মামলা করেছে। এসব মামলার বিপরীতে আদালতের নির্দেশনায় সম্পদগুলো ফ্রিজ রাখা হয়েছে। দুদক ও আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফ্রিজ হওয়া সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা  ইউনিটের। এ ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনায় যেসব সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা হয়, আমাদের ইউনিট থেকে কমিশনকে তা অবগত করা প্রাথমিক কাজ। এছাড়া, আমাদের সহায়তায় অনুসন্ধান বা তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়ে থাকেন। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জব্দ করা কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ যেন হস্তান্তর না হয় তা নিশ্চিত করা।’

জব্দ হওয়া সম্পদের বিবরণ

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে যৌথ টিমের করা মামলার বিপরীতে আদালতের আদেশে ফ্রিজ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে ৬৭.৫৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার। এ ছাড়া, ১৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)।

দুদকের মামলা ও অনুসন্ধান

দুদকের উপ-পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি জাতীয় টাস্কফোর্স বেক্সিমকো গ্রুপের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। দুদক এখন পর্যন্ত ১১টি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও প্রায় এক ডজন মামলার প্রস্তুতি চলছে। এসব মামলায় বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সালমান এফ রহমানের ছেলের নামে লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ায় পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে দুদক দুটি এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠিয়েছে।

২০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ৫ মামলা

ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, রপ্তানি দেখিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এলসির বিপরীতে ঋণের ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার আত্মসাৎ ও পাচারে অভিযোগে সালমান এফ রহমান, তার ভাই, দুই ছেলে এবং জনতা ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর পৃথক পাঁচটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেড দেখিয়ে ৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২.২৫ মার্কিন ডলার, প্লাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮.৯১ ডলার, কাঁচপুর এপারেলস লিমিটেডের নামে ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭.৪৫ ডলার, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ ডলার এবং ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৮২.৪৬ ডলার। সবমিলিয়ে মোট ২১ কোটি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার ৮০১. ডলার বা ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন—বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ভাই ও গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এ.এস.এফ. রহমান, দুই ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, গ্রুপের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওসমান কায়সার চৌধুরী, পরিচালক এ.বি. সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, পরিচালক শাহ মঞ্জুরুল হক ও পরিচালক রীম এইচ. শামসুদ্দোহা, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল বাশার, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাসরিন আহমেদ, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, প্লাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলিফ ইবনে জুলফিকার ও পরিচালক মোসা. নুসরাত হায়দার, পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসীউর রহমান ও পরিচালক রিজিয়া আক্তার, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন খান মজলিস ও পরিচালক আব্দুর রউফ এবং কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান খান ও পরিচালক সৈয়দ তানবির এলাহী আফেন্দী।

অন্যদিকে, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা হলেন—ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ ও আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুর রহিম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক, সাবেক রপ্তানি বিভাগের ডিজিএম মো. মমতাজুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (বিবিএলসি) মো. সালেহ আহম্মেদ, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন,সাবেক এজিএম (রপ্তানি) মোহাম্মদ শাজাহান, ব্যবস্থাপক ও অবসরপ্রাপ্ত এজিএম (রপ্তানি) মো. হুমায়ুন কবির ঢালী এবং  প্রিন্সিপাল অফিসার শ.ম. মাহাতাব হোসাইন বাদশা।

১১৭৪ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি

ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ জুন অপ্রতুল জামানত ও জাল সাব-কন্ট্রাক্ট চুক্তি দেখিয়ে অস্তিত্বহীন কম্পানির নামে ঋণ দেখিয়ে প্রায় ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমান ফজলুর রহমান, তার ছেলে ও আইএফআইসি ব্যাংকের এমডিসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা করে দুদক। যার মধ্যে প্রথম মামলায় আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২২ জন এবং ৪৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রথম মামলায় আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসিতে প্রায় ৬১৮ কোটি টাকা জালিয়াতি, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। কোনো সহায়ক জামানত বা সঠিক মূল্যায়ন ছাড়াই ২০২৪ সালের ২০ মার্চ এবং ১২ জুন পরিচালনা পর্ষদের দুটি সভায় মোট ৬১৮ কোটি ৯ লাখ ৩১ হাজার ৭৫ টাকা ৮৫ পয়সা বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়, যা সুদ-আসলে দাঁড়ায় ৬৭৭ কোটি ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

মামলার আসামিরা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, সাবেক পরিচালক শাহ মনজুরুল হক, সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, আর.এম. নাজমুস সাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ, গুলাম মোস্তফা ও মো. জাফর ইকবাল। এছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন— আইএফআইসি ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুনসুর মোস্তফা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সারোয়ার, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং তৎকালীন চিফ বিজনেস অফিসার মো. নুরুল হাসনাত।

ব্যাংকের আইটি ও ট্রেজারি বিভাগ থেকেও আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— ব্যাংকটির তৎকালীন চিফ ইনফরমেশন অফিসার মনিতুর রহমান, হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, হেড অব ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সৈয়দ হাসনুজ্জামান, সাবেক হেড অব অপারেশন হেলাল আহমেদ, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ রিস্ক অফিসার ইকবাল পারভেজ চৌধুরী এবং তৎকালীন চিফ ম্যানেজার হোসাইন শাহ আলী।

এ ছাড়া, শীর্ষ ঋণগ্রহীতা হিসেবে নাম এসেছে—গ্রোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর আলম চৌধুরী এবং চোয়া কনস্ট্রাকশনের পরিচালক সৈয়দা মুনিমা হোসেন, আইএফআইসি’র প্রিন্সিপাল শাখার অ্যাকটিং ইনচার্জ তাছলিমা আক্তার এবং তৎকালীন রিলেশনশিপ ম্যানেজার সরদার মো. মমিনুল ইসলামকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় ৪৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৪৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আসল, বাকিটা সুদ। এ মামলায় মোট ১৭ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা, বেক্সিমকো গ্রুপ ও আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমান, ব্যাংকটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, সাবেক পরিচালক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সার্ভ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিডি নামের কাগুজে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সুলতানা মনামী, ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. মনিরুল ইসলাম, আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম সারোয়ার, সাবেক পরিচালক রাবেয়া জামালী, আর.এম. নাজমুস সাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ ও মো. জাফর ইকবাল, তৎকালীন চিফ ম্যানেজার ও বর্তমানে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম; সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব আইডি শাহ মো. মঈনউদ্দিন, সাবেক চিফ বিজনেস অফিসার ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হাসনাত, বর্তমান উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ অব আইটি মো. মনিতুর রহমান, হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, তৎকালীন রিলেশনশিপ ম্যানেজার ও বর্তমানে ম্যানেজার (নারায়ণগঞ্জ শাখা) আবদুর রহমান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজার (কর্পোরেট ফাইন্যান্স) কৌশিক কান্তি পণ্ডিত।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সালমান ফজলুর রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় তার ভাই এ.এস.এফ. রহমান, ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকেও আসামি হয়। এছাড়া, বেক্সিমকোর পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ.বি. সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, এইচ. শামসুদ্দোহা ও এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরীকে আসামি করা হয়।

মামলায় জনতা ব্যাংকের তৎকালীন সিইও আব্দুছ ছালাম, তৎকালীন ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক সহ-ব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক এজিএম শাজাহান, সাবেক এজিএম মো. হুমায়ুন কবীর ঢালী, সাবেক ম্যানেজার শ.ম. মাহাতাব হোসেন ছাড়াও আসামি হয়েছেন কোজি এপারেলস লিমিটেডের এমডি মো. মাহফুজুর রহমান খান, পরিচালক সৈয়দ তানভীর এলাহী, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেডের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনতা ব্যাংকের গ্রাহক কোজি এপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ সুবিধা মঞ্জুর ও প্রদান করে এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মালামাল আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কোজি এপারেলস লিমিটেডকে ‘নতুন’ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

৮০০ কোটি টাকা লোপাটে মামলা

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাল জামানত ও অতিমূল্যায়িত সম্পত্তির মাধ্যমে বন্ডের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সালমান এফ. রহমান এবং বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল মামলা করে দুদক।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন—সালমানের ছেলে আইএফআইসি’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, ব্যাংকটির সাবেক এমডি মো. শাহ আলম সারোয়ার, ব্যাংকটির সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, এ.আর.এম. নাজমুস সাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ, সাবেক পরিচালক রাবেয়া জামালী, গোলাম মোস্তফা, মো. জাফর ইকবাল, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ক্রেডিট অফিসার সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, হেড অব লোন পারফর্মেন্স ম্যানেজমেন্ট শাহ মো. মঈনউদ্দিন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, গীতাঙ্ক দেবদীপ দত্ত, মো. নুরুল হাসনাত ও মনিতুর রহমান, ব্যাংকটির হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, ধানমন্ডি শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও এফভিপি নাজিমুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক হোসাইন শাহ আলী, রিলেশনশিপ ম্যানেজার সরদার মো. মমিনুল ইসলাম, এসপিও আয়েশা সিদ্দিকা ও এফএভিপি সিলভিয়া চৌধুরী। এ ছাড়া, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)সাবেক কমিশনার রুমানা ইসলাম, মিজানুর রহমান, শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ও মো. আবদুল হালিমকেও আসামি করা হয়।

আসামি করা হয় সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিমাই কুমার সাহা, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান এবং শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউজ্জামান ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তিলাত শাহরিনকে।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত আগস্ট মাসে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

বাসভাড়া বাড়ল

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের গণপরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করেছে সরকার। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্ত জেলার প্রতি কিলোমিটারেও বাড়ানো হবে ১১ পয়সা।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর। শুধু ডিজেলচালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না।’

জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে ভাড়াও আবার কমবে। তবে রেলওয়েতে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।

এর আগে দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এবিষয়ে সভা শুরু হয়। সড়কমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় পরিবহন মালিক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা সহ-সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

ইরানের সরকার বিভক্ত, ট্রাম্পের দাবির বাস্তবতা কী?

ইরানের সরকার ‘মারাত্মকভাবে’ বিভক্ত বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে নেতৃত্বের বিভক্তির প্রমাণ হিসেবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার বৈঠকে ইরানের অনুপস্থিতিকে তুলে ধরে হোয়াইট হাউস। তবে দেশটিতে ভিন্ন চিত্র দেখছেন বলে জানায় বিশ্লেষকরা।

ইরান জানিয়েছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্বকে যতটা বিভক্ত বলা হচ্ছে, বাস্তবে তারা তার চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরাত কামরাভা বলেন, ইরানি নেতৃত্ব সম্পর্কে এটি একটি গুরুতর ভুল ব্যাখ্যা। যুদ্ধ ও আলোচনার সময় আমরা তাদের যথেষ্ট ঐক্যবদ্ধ দেখেছি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হওয়ার পর দেশটির শাসনব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছে, আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিলেও তিনি প্রকাশ্যে অনুপস্থিত থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ভিন্নমত থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারা একসঙ্গে বসে দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছেন। একদিকে যুদ্ধের চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কঠোরপন্থি গোষ্ঠীর চাপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিজয় ঘোষণার চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদের। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরানি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে কোয়েন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধের পর ইরানি নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশ আগের চেয়ে বেশি সমন্বিত হয়েছে।

পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে তেহরান বারবার জানিয়ে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে না। একইসঙ্গে মার্কিন চাপের মধ্যেও ইরান তাদের দীর্ঘদিনের ‘লাল রেখা’—যেমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন থেকে সরেনি।

এদিকে ইরানে একটি নতুন ‘যুদ্ধকালীন কাঠামো’ তৈরি হয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো একত্রিত হয়ে একটি সামরিক ছাতার অধীনে কাজ করছে, যাতে সংকট থেকে বেরিয়ে আসা যায়। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণভাবে কঠোরপন্থি গোষ্ঠীগুলো প্রতিদিন বিক্ষোভ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তির বিরোধিতা করছে, যা ইরানকে পরাজিত অবস্থানে ফেলতে পারে। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন যেন আরও জটিলের দিকে যাচ্ছে বলেও জানান বিশ্লেষকরা।

মাধ্যমিকের শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এপ্রিল-২০২৬ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশ এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশে ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক আগামী ২ মে বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হবে। এ আয়োজনের শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে একযোগে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে।

এতে আরো বলা হয়, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উপলক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ৬টি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন-

  • এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের অনলাইন কিংবা অনস্পট রেজিস্ট্রেশনের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবেন।
  • প্রতি শ্রেণিতে পাঠদানের সময়ে নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবহিত করতে হবে।
  • নোটিশ বোর্ডে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেইটে অনুমোদিত ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে হবে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com