ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার হযরতপুর ইউনিয়নের বহুল পরিচিত ‘জালাল মেম্বারের মোড়’ এলাকার নাম পরিবর্তন করে ‘আমান চত্বর’ রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাটি ‘জালাল মেম্বারের মোড়’ নামেই পরিচিত ছিল। বোধ শক্তি হওয়ার পর থেকেই এলাকার মানুষ এই নামেই স্থানটিকে চিনে এসেছে। এমনকি সাবেক প্রভাবশালী নেতা আমানুল্লাহ আমান ক্ষমতায় থাকা সময়েও এই নাম পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কিন্তু সম্প্রতি কিছু দলীয় নেতাকর্মী হঠাৎ করেই এলাকাটির নাম পরিবর্তন করে ‘আমান চত্বর’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো ধরনের জনমত যাচাই বা প্রশাসনিক অনুমোদনের সুস্পষ্ট তথ্য ছাড়াই এই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি স্থানের ঐতিহ্যগত নাম পরিবর্তন করা এত সহজ হওয়ার কথা নয়। এটি শুধু একটি নাম নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত।”
তাদের মতে, আমানুল্লাহ আমানের বাড়ি এই স্থান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে হলেও, শুধুমাত্র এই কারণ দেখিয়ে একটি পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত নাম মুছে ফেলা যুক্তিযুক্ত নয়।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—
- কে বা কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
- প্রশাসনের অনুমোদন ছিল কি না?
- কাদের স্বার্থে এই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে?
- এবং কেন এতদিন পর হঠাৎ এই উদ্যোগ?
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল মনে করছে, একটি এলাকার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, ঐতিহ্য এবং আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক ও অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।
‘জালাল মেম্বারের মোড়’ থেকে ‘আমান চত্বর’—এ নাম পরিবর্তন কেবল একটি সাইনবোর্ড বদল নয়, বরং স্থানীয় ইতিহাস, পরিচয় ও জনমতের প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।















