প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে জাগপার মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধানের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ে জাগপার জেলা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি জাগপা নেতাকর্মীদের। তারা জানায়, হামলায় কার্যালয়টির টিনের সীমানা প্রচীরটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় এবং ভেতরের চেয়ার, টেবিল ব্যানার ভাঙচুর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে রাশেদ প্রধান আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে জেলা শহরের বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলা পৌঁছালে মিছিল থেকে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা বকুলতলায় জাগপার জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে চোরঙ্গী মোড়ে পথসভায় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান জাগপার মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধানকে পঞ্চগড়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচার দাবি করেছেন জাগপার নেতাকর্মীরা। জাগপা পঞ্চগড়ের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের অফিসে একই কায়দায় হামলা করেছিল। আমরা মনে করেছিলাম, গণ-অভ্যুত্থানের পরে বাকস্বাধীনতা ফিরে পাব। কিন্তু নব্য স্বৈরাচার বিএনপি আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। আজ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েক শ নেতাকর্মী আমাদের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং বিচার দাবি করছি। এ ঘটনায় আমরা দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
জেলা জাগপার সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আলম বিপ্লব বলেন, ‘তারা আমাদের দলীয় কার্যালয়ের প্রাচীর ও ভেতরের চেয়ার-টেবিল ও টিভিসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। তারা আমাদের নেতার নামে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়েছে। তবে আমাদের কোনো নেতাকর্মীর ওপর তারা হামলা করেনি। তারা আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা তাদের প্রতিহত করতাম।’
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। জাগপা দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
















Leave a Reply