স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আবার বিয়ে করার প্রস্তুতি, সংঘর্ষে আহত ৭

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন করে বিয়ের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের গাজীবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চরমথুরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজীর ছেলে মহিম উদ্দিন রুবেলের সঙ্গে দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে রিমা আক্তারের ২০২৪ সালে ১৪ আগস্ট ইসলামী শরিরাহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর রুবেল প্রবাসে চলে যান। গত কয়েক মাস পূর্বে দেশে ফিরে আসেন এবং এক পর্যায়ে স্ত্রী রিমা আক্তারের শারীরিক অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দেন।

এরই মধ্যে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রুবেলের পুনরায় বিয়ের দিন ধার্য করে তার পরিবার। এই সংবাদ পেয়ে রুবেলের আগের স্ত্রী রিমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বর রুবেলের বাড়িতে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মারামারি বাধে। এক পর্যায়ে ঘরের ভেতরে থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে অন্তত সাতজন আহত হয়।

আহতের মধ্যে রিমা আত্তার, তার মা কোহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাত ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগম। এর মধ্যে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়। এ ছাড়া রুবেলের পরিবারের কয়েকজন আহত হয়।

রিমা আক্তার বলেন, ‘রুবেল প্রায় চার মাস পূর্বে দেশে ফিরে আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে আসে। কয়েক দিন পূর্বে আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে এসে আর খোঁজখবর নেয়নি। শুনেছি সে আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে, যা সঠিক নয়। আজ (শনিবার) সে আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আমি আমার পরিবারের সদস্যরা এলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের বেশ কয়েকজনকে বেদম পিটিয়ে আহত করেছে।’

অন্যদিকে মহিম উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘রিমা শারীরিকভাবে অক্ষম। তাই গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দিয়েছি। আজ আমি আবার বিয়ে করতে রওনা হওয়ার মুহূর্তে আমাদের বাড়িতে তারা প্রবেশ করে হামলা করে। আমাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়।’

এদিকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করেন।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জেনেছি। তবে এই বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি।’

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com