মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১০টা (ইস্টার্ন টাইম), অর্থাৎ ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই সামরিক অভিযান ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
এর আগে নাবিকদের এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থাকে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। ওই বার্তায় বলা হয়, অবরোধটি পতাকা নির্বিশেষে সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর প্রযোজ্য হবে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস আরো জানায়, ইরানবহির্ভূত গন্তব্যে যাওয়ার জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ ট্রানজিট প্যাসেজ এই বিধি-নিষেধে সরাসরি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়।
তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের এলাকায় প্রবেশ করা জাহাজগুলো সামরিক উপস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, পরোয়া করেন না তিনি। পাকিস্তানের আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এমন মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।
ফ্লোরিডা থেকে ফেরার পর মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তারা (ইরান) ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তারা যদি না ফেরে, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
ইসলামাবাদে শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই আলোচনা ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে তারা সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দরে অবরোধ শুরু করবে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি থেকে মাত্র ‘কয়েক ইঞ্চি দূরে’ ছিল।












Leave a Reply