তেলসংকটে কটিয়াদীতে কমেছে গণপরিবহন, বাড়ছে সিএনজি ও অটোরিকশার দাপট

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পরিবহন খাতে। তেলসংকটের কারণে সড়কে গণপরিবহন ও মোটরসাইকেলের চলাচল কমে গেছে। অন্যদিকে স্থানীয় যাতায়াতে সিএনজি ও অটোরিকশার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চালকদের আয়ও বেড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আগে যেখানে বাস, লেগুনা বা অন্যান্য গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন সেগুলো আগের মতো পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ফলে স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের যাত্রায় মানুষ এখন বেশি নির্ভর করছেন সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর।

বিশেষ করে কটিয়াদী থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। কাছাকাছি দূরত্বে গেলেও ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে সড়কের বড় অংশজুড়ে চলছে সিএনজি ও অটোরিকশা। বড় যানবাহনের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কম। কম খরচে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় বলে যাত্রীরাও এসব যানবাহনের দিকে ঝুঁকছেন।

অটোরিকশার যাত্রী আব্বাস মিয়া বলেন, আমার মোটরসাইকেল আছে, কিন্তু তেল পাই না বলে রিকশায় চলাচল করছি। আগের তুলনায় সড়কে যানবাহনও কম দেখা যায়।

আরেক যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছি। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস পাইনি। তাই সিএনজিই এখন শেষ ভরসা।

অটোরিকশা চালক হাসান মিয়া বলেন, যাত্রী এখন অনেক বেড়েছে। ভাড়া কম হওয়ায় স্বল্প দূরত্বে সবাই অটোরিকশায় যাচ্ছে। আগের চেয়ে আয়ও বেড়েছে। তবে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গাড়ি ঠিকমতো চার্জ দিতে পারি না।

সিএনজি চালক হারিস মিয়া বলেন, দূরপাল্লার যাত্রীরাও এখন সিএনজিতে চলাচল করছেন। বড় গাড়ি কম থাকায় যাত্রী বেশি পাচ্ছি। তবে গ্যাস সংকট রয়েছে, চাপও কম থাকে।

স্থানীয়দের মতে, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিকল্প পরিবহন হিসেবে সিএনজি ও অটোরিকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে গণপরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা জরুরি।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com