জনতার প্রতিধ্বনি

জনগণের কণ্ঠস্বর

হরিরামপুরে নদী ভাঙন, সিংগাইরে উন্নয়নহীনতা

জনতার প্রতিধ্বনি

বিশেষ প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ

হরিরামপুরে নদী ভাঙন, সিংগাইরে উন্নয়নহীনতা

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বাড়ছে জনদুর্ভোগ, প্রশ্নে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা

মানিকগঞ্জ-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত হরিরামপুরসিংগাইর উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগলেও একটি জায়গায় তাদের অভিন্নতা রয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের অভাব এবং কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুরে প্রতি বছর নদী ভাঙনের কারণে অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বসতভিটা, কৃষিজমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বারবার পুনর্বাসনের দাবি জানালেও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্ক শুরু হয়। কখন কার বাড়ি নদীতে ভেঙে পড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে, সিংগাইর উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রমের ঘাটতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং শিল্পায়নের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এতে করে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। উন্নতমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা সুবিধার অভাবে সাধারণ মানুষকে পার্শ্ববর্তী জেলা কিংবা রাজধানীর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে, দুই উপজেলাতেই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না। বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এলাকার এই দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা এবং সক্রিয় মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

সিংগাইর উপজেলা ঢাকার অতি নিকটে হওয়া সত্ত্বেও এখানে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া গড়ে ওঠেনি কোন শিল্পকারখানা, নেই কোন উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আছে শুধু এক ঝাঁক ইটের ভাটা যার অধিকাংশই অবৈধ তিন ফসলি জমির মাটি রাতের বেলায় চুরি করে নিয়ে যায় এই সমস্ত অবৈধ ইট ভাটার মালিকেরা, প্রশাসনকে ও দলীয় নেতাকর্মীদের ঘুষ দেওয়ার মাধ্যমে ম্যানেজ করে চলে এই ইটভাটা গুলো এমন অভিযোগে তুলেছে স্থানীয় জনগণ।

হরিরামপুরে নদী ভাঙন এবং সিংগাইরে উন্নয়নহীনতা—দুটি ভিন্ন সংকট হলেও এর প্রভাব পড়ছে পুরো মানিকগঞ্জ-২ আসনের উপর।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com