হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক বার্তা দেবেন। এর আগেই ইরানের নৌবাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজগুলোকে সতর্ক করে দেয়। অনুমতি ছাড়া চলাচল করলেই আক্রমণের শিকার হতে হবে- এমন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।বার্ষিক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বক্তব্যে কুপার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে, সেখানে লেবাননকেও রাখতে হবে- এমনটাই বলতে চান তিনি।
জানা যায়, ইরানের ওপর হামলায় সরাসরি অংশ নেয়নি যুক্তরাজ্য। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটি।তাদের প্রধান লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এখন উপসাগরীয় সফরে আছেন। গত রাতে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুজনই স্থায়ীভাবে শান্তি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।আজ সন্ধ্যার বক্তব্যে কুপার বলবেন, এই যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যেও। বেড়ে গিয়েছে খাবার ও জ্বালানির দাম। তিনি জোর দিয়ে বলবেন, বাধাহীনভাবে ও বিনামূল্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল করতে দিতে হবে । কারণ, নিরাপদে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে ইরানকে টাকা দিতে হতে পারে- এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে।মন্ত্রীরা মনে করছেন, এখন বড় সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতেই। তাই যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কুপার তাদের প্রতি আহ্বান জানাবেন। আবার যেন নতুন করে সংঘাত না শুরু না হয়- সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দিতে চান তিনি।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে থাকবে তার স্পষ্ট অবস্থান। বিশ্ব অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ পথ ইচ্ছা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিন হাজার মাইল দূরে থেকেও এর প্রভাব পড়ছে ব্রিটিশদের জীবনে। এমনটাই বলবেন তিনি। এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। কোনো দেশই এই পথ বন্ধ করতে পারে না। এটি সমুদ্র আইনের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে—এসব বিষয়ও যুক্ত করবেন কুপার।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থাতেও যাবেন তিনি। বর্তমানে প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের সহায়তায় সংস্থাটির ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানাতেই হচ্ছে এই সফর।
প্রণালিটি পুরোপুরি নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়া জরুরি। কারণ, শুধু বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়েও জোর দিবেন কুপার।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে ৪০টির বেশি দেশ নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। সেখানে মূল আলোচনা ছিল- কীভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া যায়। এই বৈঠকে সবাই একমত হন যে, সবার আগে যুদ্ধ থামাতে হবে। ওই বৈঠকের পর কুপার অভিযোগ করেন, ইরান এই আন্তর্জাতিক নৌপথকে ‘হাইজ্যাক’ করেছে, তারা বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে। তবে এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সমুদ্রপথ নিরাপদ করা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। তাদের সহায়তায় ঘাটতি রয়েছে। তাই যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশগুলো এখন হিসাব কষছে, কীভাবে বড় যুদ্ধে না জড়িয়ে এই পথ নিরাপদ রাখা যায়।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে ইরান কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানির দাম।
বুধবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এখন অন্য দেশগুলোর সাহস দেখানোর সময় এসেছে। তাদেরই এই পথ আবার খুলে দিতে হবে।’















Leave a Reply