মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়ন—এক সময়ের সম্ভাবনাময় এই জনপদ আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। উন্নয়নের বাস্তব চিত্র এখানে এখনো অধরাই রয়ে গেছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষা, কৃষি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম—সবখানেই রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংকট, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে কষ্টসাধ্য।
মানিকনগর থেকে পাড়াগ্রাম গরুর হাট পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিনের। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে নাকাল হতে হয় এলাকাবাসীকে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
একইভাবে, মান্নার মোড় থেকে ফতেপুর পর্যন্ত সড়কটিও বহু বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জরুরি প্রয়োজনে এই রাস্তায় যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো—স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনে আগ্রহী কিছু ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে রাস্তার আংশিক সংস্কারসহ ছোটখাটো উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যদিও এসব উদ্যোগ সীমিত পরিসরে, তবুও এলাকাবাসী তাদের এই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরে উন্নয়নের প্রত্যাশা করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃহৎ পরিসরের উন্নয়ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের নজর এখনো প্রত্যাশিতভাবে পড়েনি। ফলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউনিয়নের ফসলি জমি নির্বিচারে মাটি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে, যা কৃষির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অবৈধ ইটভাটা, যা পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চান্দহর ইউনিয়ন
পরিষদের কার্যক্রম নিয়েও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। নাগরিক সেবা আরও গতিশীল ও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শিক্ষা খাতেও সমস্যা কম নয়। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এরই মধ্যে শান্তিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এছাড়া, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সমন্বয়ের অভাব অনেক সময় উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সবাই একসাথে কাজ করলে এই ইউনিয়নের চিত্র বদলানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, চান্দহর ইউনিয়নের মানুষ এখনো উন্নয়নের মৌলিক সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। তারা আশা করছেন—দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কৃষিজমি রক্ষা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে। তাহলেই এই জনপদ আবার তার সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে পারবে।














