বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে গত ফেব্রুয়ারিতে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।
সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ২২ ফেব্রুয়ারি এক ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত নেয়, ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না মঞ্জুরুল।
এত দিন মঞ্জুরুলের সেই শাস্তি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জাহানারা। তবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুরুলে অন্য সহযোগীদেরও শাস্তি চান। প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুকে দেওয়া শাস্তিও জাহানারার কাছে সামান্য মনে হচ্ছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী জাহানারা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরো অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’
ক্রিকেটে তার মতো আরো যেসব নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তার সহযোগীরা মানসিকভাবে তাকে অত্যাচার করেন।
জাহানারা বলেন, ‘আমাকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তাদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তার এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’
ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে তিনটি দাবিও জানিয়েছেন জাহানারা। (১) মঞ্জু ও তার সহযোগী গ্রুপের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিচার করা। (২) অন্য অঙ্গনের যেসব ক্রীড়াবিদ যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন, তাদের অভিযোগেরও তদন্ত করে বিচার করা। (৩) বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করা।











Leave a Reply