জনতার প্রতিধ্বনি

জনগণের কণ্ঠস্বর

সেই নারীকে হত্যা করা হয় শ্বাসরোধে, মেলেনি ধর্ষণের আলামত

প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারী ও এক নবজাতকের গলিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ২০ এপ্রিল তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তবে ৮ দিনেও পুলিশ তাদের পরিচয় বা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তাদের মৃত্যুর কারণ ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত থেকে জানা গেছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এসেছে। আজ সোমবার নারী ও নবজাতকের ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে প্রতিবেদন জমা দেবেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আলমগীর হোসেন।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি। মৃত নারীর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। মরদেহ পচে যাওয়ায় আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা রাখা হয়েছে। এসব নমুনা ঢাকায় পরীক্ষা করানো হবে।

গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর থানার পুলিশ উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর পার থেকে মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। পরিচয় না পাওয়ায় তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপে পোস্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোড়ন। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, টাঙ্গাইলের ওই গর্ভবতী নারীকে ধর্ষণের পর পেটের বাচ্চাসহ হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে পুঁতে রাখা হয়েছিল। কিছু পোস্টে বলা হয়, ধর্ষণের এক পর্যায়ে গর্ভপাতে শিশু ভূমিষ্ঠ হলে তাকেসহ মাকে খুন করা হয়।

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে চিকিৎসক আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মরদেহ পচে যাওয়ায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তাছাড়া পুলিশ রিপোর্টে লিখেছেন বাচ্চার বয়স আনুমানিক একদিন। ধর্ষণের পর কোনো নারী প্রসব করলে তখন ধর্ষণের আলামত থাকে না। নারী ও নবজাতকের ডিএনএ এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে ওই চিকিৎসক নিশ্চিত করেন।

মরদেহ উদ্ধারের পরদিনই স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরলসভাবে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। ভিকটিমের পরিচয় জানার জন্য দেশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।’

হত্যার বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কেবল ‘ধর্ষণ’-এর তথ্যটিকে ‘বিভ্রান্তিমূলক, বীভৎস ও মনগড়া অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। ওসি মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নারী ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার সংক্রান্ত মর্মান্তিক বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক, বীভৎস ও মনগড়া অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশের নজরে এসেছে।’

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাবেদ পারভেজ জানান, মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করে আনার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের লাশ পাওয়া যায়। অনুমাননির্ভর নবজাতকের বয়স ছিল এক দিন। মরদেহ উদ্ধারের আনুমানিক এক সপ্তাহ আগে তাদের হত্যার পর বস্তাবন্দি করে ওই স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com