বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরেই নদী–খালের দেশ বলা হয়। গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই ভূখণ্ডে অসংখ্য নদী ও খাল একসময় গ্রামীণ জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যা কৃষি, মৎস্য, নৌ-পরিবহন ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। বর্ষায় খাল দিয়ে নদীতে পানি প্রবাহিত হতো, আর শুষ্ক মৌসুমে সেই পানিই সেচের মাধ্যমে কৃষিজমিকে জীবন্ত রাখত। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষক সমাজ ও জীববৈচিত্র্যের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি কমে যাওয়া, পলি জমা, দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক খাল ও জলপথ এখন বিলুপ্তির পথে, যার ফলে সেচ সংকট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশের অবনতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্বলতা ক্রমেই বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে খাল খনন কর্মসূচি আবার নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রায় চার দশক আগে এই উদ্যোগ কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল; তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি পুনরায় চালু করা গেলে কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে কি না—তা এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, কৃষি অবকাঠামো এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ছিল দুর্বল। এই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেন, যার মধ্যে খাল খনন ও পুনঃখনন ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি কৃষিকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে ‘সবুজ বিপ্লব’ ধারণাকে সামনে আনেন। সেই সময়ে সরকারের পরিকল্পনা ছিল প্রাকৃতিক জলপথগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে কৃষিতে সেচের সুযোগ বাড়ানো এবং গ্রামীণ উৎপাদন ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে দেশব্যাপী খাল খনন ও সংস্কারের একটি ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭৯–৮০ অর্থবছরে মাত্র এক বছরের মধ্যেই এক হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খননের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমিতে নতুন সেচ সুবিধা সৃষ্টি হয়েছিল। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়। ১৯৭৫ সালের দিকে দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল আনুমানিক ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ২ কোটি টনের মধ্যে। কিন্তু ১৯৮০ সালের শুরুতেই তা দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং ১৯৮৫ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ১ দশমিক ৫ কোটি টনে পৌঁছে যায়। এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে উন্নত বীজ, সার এবং সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে গবেষকেরা মনে করেন।
খাল খননের ফলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা বৃদ্ধি পায়। এতে কৃষকরা এক ফসলি জমিকে দুই বা তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করতে সক্ষম হন। অনেক এলাকায় খাল পুনরুজ্জীবনের ফলে বোরো ধান চাষের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পুরোনো তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে সেচ সুবিধার আওতায় থাকা জমির পরিমাণ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ হেক্টর ছিল। কিন্তু ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন এবং কৃষকের আয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়। সেই সময়ে গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ সরাসরি এই পানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মৎস্য খাতেও খাল খনন কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছিল। ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশের মোট মাছ উৎপাদন ছিল প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টনের মতো, যার বড় অংশই আসত প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে। খাল ও বিলের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় মাছের প্রজনন ও বিস্তারের সুযোগ ছিল বেশি। খাল পুনঃখননের ফলে অনেক এলাকায় প্রাকৃতিক জলাশয় আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য খাদ্য ও আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস তৈরি হয়। একই সঙ্গে গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থাতেও খালগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেক এলাকায় নৌ-পথ ব্যবহার করে কৃষিপণ্য বাজারে সহজেই পৌঁছাত।
কিন্তু এই ইতিবাচক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত চার দশকে বাংলাদেশের নদী ও খালের অবস্থা নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। বিভিন্ন গবেষণা ও পরিবেশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে একসময় সাত শতাধিক নদী থাকলেও বর্তমানে এর একটি বড় অংশ মৃতপ্রায় বা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ, অতিরিক্ত পলি জমা, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং দখলদারিত্বের কারণে নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজ বাংলাদেশের নদী প্রবাহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে বলে বহু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু নদী ও খাল শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, দেশে একসময় প্রায় ২৫ হাজার কিলোমিটার খাল ছিল। কিন্তু বর্তমানে এর একটি বড় অংশ ভরাট হয়ে গেছে বা দখলের শিকার হয়েছে। অনেক খাল বছরের পর বছর পলি জমে সংকুচিত হয়েছে। পরিবেশ গবেষণায় দেখা গেছে যে, গত ৪০ বছরে দেশের প্রায় অর্ধেকের বেশি ছোট খাল কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক খালের ওপর গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, বাজার কিংবা সড়ক। ফলে বর্ষার পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি সেচের প্রায় ৭৫ শতাংশ নির্ভর করছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর। দেশে প্রায় ১৭ লাখের বেশি সেচ নলকূপ ব্যবহার করে পানি উত্তোলন করা হয় বলে বিভিন্ন কৃষি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় গত তিন দশকে পানির স্তর ১০ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত নিচে নেমেছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন এবং পানির নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই বাস্তবতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি আবারো গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেন। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অন্তত ১৫–২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনরুজ্জীবিত করা গেলে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে, ফলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে দেশে বছরে চার কোটি টনের বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়; উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে আগামী দশকে উৎপাদন আরো কয়েক মিলিয়ন টন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।
মৎস্য খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশে বছরে প্রায় ৪৭–৪৮ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হলেও প্রাকৃতিক উৎস থেকে উৎপাদন কমছে। খাল ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনলে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ সহজ হবে। পরিবহন খাতেও খাল পুনরুজ্জীবন গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় গ্রামীণ এলাকায় নৌ-পথ ছিল প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। খাল সচল হলে নৌ-পরিবহন আবার সক্রিয় হবে, পণ্য পরিবহন খরচ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ১৯৭০–৮০-এর দশকে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার খাল সচল ছিল, যা ৩০–৪০ শতাংশ কৃষিজমিকে সেচ দিত। বর্তমানে নদীর নাব্যতা হ্রাস, পলি জমা ও দখলের কারণে প্রায় ৬০–৭০ শতাংশ খাল কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাই শুধু খাল খনন নয়, আগে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। গত ৫০ বছরে প্রধান নদীগুলোর গভীরতা কমে যাওয়ায় খালে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদী খননের মাধ্যমে পানির উৎস পুনরুদ্ধার করে খাল পুনঃখনন করা হলে কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
অন্যদিকে, খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নগর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২০–২৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয় এবং এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২–৩ বিলিয়ন ডলার। যদি রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর খালগুলো পরিকল্পিতভাবে পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করা যায়, তবে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে, যা জলাবদ্ধতা কমিয়ে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি খাল দখলমুক্ত করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি উদ্ধার করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নগর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলো মোকাবেলা না করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। প্রথমত, খাল পুনঃখননে বিপুল অর্থের প্রয়োজন—একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটার খাল পুনঃখননে গড়ে ১–৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, যা জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি ও তদারকির অভাব প্রকল্পের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে; অতীতে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে ২০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ অপচয়ের নজির রয়েছে। তাই সুনির্দিষ্ট খাল নির্বাচন, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া নদী ও খাল ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করলে এই কর্মসূচি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, পরিবহন ও নগর ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের একটি জাতীয় কর্মসূচি নেয়া হয়, তাহলে এর জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রয়োজন হতে পারে। খাল খননের গড় ব্যয় প্রতি কিলোমিটারে কয়েক কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে, যা নির্ভর করবে খালের প্রস্থ, গভীরতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর। এই অর্থায়ন সরকারি বাজেট, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, জলবায়ু তহবিল এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও পরিবেশ সংস্থাগুলোও জলসম্পদ পুনরুদ্ধার প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়ে থাকে।
সফল বাস্তবায়নের জন্য কেবল খাল খননই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো। খাল দখলমুক্ত করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং নদী–খালের স্বাভাবিক সংযোগ পুনঃস্থাপন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই এসব জলপথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। অতীতে খাল খনন কর্মসূচি কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এই উদ্যোগ আবার সামনে এসেছে। যদি এটি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। তখন হয়তো আবারো বলা যাবে—নদীমাতৃক এই ভূখণ্ডে সবুজ উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।
লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট ড. মোঃ মিজানুর রহমান











Leave a Reply