নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

রেকর্ড গড়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। রানের হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। প্রতিপক্ষকে ৫৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে ২০১৩ সালে মিরপুরে ৪৩ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

এতে করে ঘরের মাঠে টানা তিন সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডেকে এনে সিরিজে হারায় বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে আজ তৃতীয় ওয়ানডেটি ছিল অঘোষিত ফাইনাল। তাতে ২৬৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। কিউইদের ধসিয়ে দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম দুই ম্যাচে চোটের কারণে না খেলা বাঁহাতি পেসার আজ ফিরেই স্লোয়ার-কাটারে কিউই ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তোলেন।

ফেরার ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। তাতে দীর্ঘ অপেক্ষা ফুরিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো এই কীর্তি গড়লেন তিনি।

ম্যাচ হারার আগে কিউইদের হয়ে লড়াই করেন ডিন ফক্সক্রফট। শেষ উইকেটে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাকে সঙ্গ দেওয়া বেন লিস্টারের অবদান ছিল মাত্র ২। শেষ ব্যাটার হিসেবে যখন আউট হলেন তখন তার নামের পাশে ৭৫ রান। ৭২ বলের ইনিংসটিতে কোনো চার না মারলেও ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৭টি। তার আগে ওপেনিংয়ে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন নিক কেলি।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ধাক্কায় হলেও শেষে দলকে ২৬৫ রানের সংগ্রহ এনে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। দুজনে মিলে চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটি গড়েন। দুর্দান্ত জুটি গড়ার পথে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন শান্ত।

২ বছরের বেশি সময় পর সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন শান্ত। ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির ইনিংসটি খেলেছেন ১০৫ রানের। শান্তর ৯ চার ও ২ ছক্কার বিপরীতে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন পেসার উইল ও’রুকি।

সাবেক সভাপতি রিফাত রশীদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ব্যববহার করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য সরকার থেকে পাওয়া অনুদানের তথ্য গোপন করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।

প্ল্যাটফর্মের সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

সংগঠনটির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ জনগণের সংগঠন। এই সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ নিজেদের মতো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তারা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। আমাদের অন্ধকারে রেখে তারা ওই অর্থ লোপাট করেছে।’

তিনি বলেন, “‘হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণার দেশব্যাপী অনলাইনে প্রচারণার আয়োজন করা হয়। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম বিপুল অর্থের জোগান কিভাবে হবে। তিনি বলেন, বাপের টাকায় প্রচার হবে। এরপর সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয় কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অডিট ও অনিয়মের বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন।

থানায় মব ছাত্রদলের ফ্যাসিবাদী আচরণ : ফরহাদ

ছাত্রদলের নেতকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগ থানায় মব করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু নেতারা। তারা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ঢাবিতে মিছিল শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমর্থনে ছাত্রদল শাহবাগ থানায় চড়াও হয়েছে কি না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ সময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, থানায় থামলা চালিয়ে ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশী শক্তির রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি করেন তিনি।

এর আগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

থানার ভেতরে আটকে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘটনাস্থলে আসেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়ের ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক। এ সময় তাদের বেশ কয়েকবার মারধর করা হয়। এ ছাড়া ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভিও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ছাত্রশিবিরকে হটিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মিছিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ‘গুপ্ত রাজনীতি’র প্রতিবাদে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপিত রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।  

আজ বৃহস্পতিবার রাতে ১০টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে থেকে শুরু করে বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পদক্ষিণ করে।     

এর আগে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সাদিক কায়েমের বিরুদ্ধে গুপ্ত রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন। অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার জড়িত থাকার ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ জানায় তারা। এ সময় ‘সাদিক কায়েমের ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে না’— এমন স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামে আপত্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে স্ক্রিনশটটিকে ভুয়া দাবি করে রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভি। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। এ ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় প্রবেশ করেন এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ধরেন।

জুবায়েরের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের শিপন

রাজধানীর শাহবাগ থানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ঢাল হয়ে দাঁড়ান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে শাহবাগ থানায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করতে এসেছিল ছাত্রদল। পরে খবর পেয়ে থানায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ওই সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে শাহবাগ থানার ভেতর ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলা করা হয়। এতে থানার ভেতরে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরও আটকা পড়েছেন।

শাহবাগে আসুন, ফেসবুকে পোস্টের পর লাঞ্ছিত ডাকসু নেতা জুবায়ের

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহবাগ থানায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানোর আধাঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের। শাহবাগ থানার সামনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে তার ওপর হামলা চালায় ছাত্রদল। এক পর্যায়ে থানার ভেতরে আশ্রয় নেন জুবায়ের।

এর আগে এক পোস্টে জুবায়ের লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে গ্যাঞ্জাম লাগিয়ে ক্যাম্পাসে রামদা, কিরিচ, চাপাতি ঢোকানোর প্লট তৈরি করছে ছাত্রদল। এ উদ্দেশ্যে শিবিরের এক ছেলের নামে একটা ফেক স্ক্রিনশট বানানো হইছে। তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর এআই ফটো দিয়ে। ভিকটিম শাহবাগ থানায় গিয়েছে জিডি করতে। সেখানে গিয়ে ছাত্রদল তাকেসহ অন্য শিক্ষার্থীদের মারধর করছে এই মুহূর্তে। হ্যাঁ, মারধর করছে।’

তিনি লেখেন, ‘স্পষ্টতই তারা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে করে অন্যান্য ক্যাম্পাসের মতো ঢাবিতেও তাদের স্পেশাল কলম, অর্থাৎ রামদা, চাপাতি ঢোকানোর প্লট তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের আহ্বান করছি সতর্ক থাকার।ভিকটিমে সাথে কথা বলেছি। সে প্রোফাইলে গিয়ে স্ক্রিনরেকর্ড পাবলিশ করবে। ট্রাশে গিয়েও দেখাবে যে কোনো পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে কি না। তাহলেই দুধ কা দুধ, পানিকা পানি হয়ে যাবে। ওয়েট।’

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করায় বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা করতে এসেছিল ছাত্রদল। পরে খবর পেয়ে থানায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ওই সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে শাহবাগ থানার ভেতর ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলা করা হয়। এতে থানার ভেতরে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরও আটকা পড়েছেন।

ছাত্রলীগে ‘গুপ্ত রাজনীতি’, ছাত্রদলের তোপে সাদিক কায়েম

রাজধানীর শাহবাগ থানায় আটকে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রদলের তোপের মুখে পড়েছেন ভিপি সাদিক কায়েম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। এক পর্যায়ে তারা থানার সামনে থেকে ডাকসু ভবনের দিকে চলে যান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সাদিক কায়েমের বিরুদ্ধে গুপ্ত রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন। অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার জড়িত থাকার ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ জানানো হয়। ‘সাদিক কায়েমের ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে না’—এমন স্লোগানও শোনা যায়।

এর আগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। থানার ভেতরে আটকে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘটনাস্থলে আসেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়ের ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক। এ সময় তাদের বেশ কয়েকবার মারধর করা হয়।

এ ছাড়া ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভিও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামে আপত্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে স্ক্রিনশটটিকে ভুয়া দাবি করে রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভি। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

এ ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় প্রবেশ করেন এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের দুজনকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককেও মারধর করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় যৌথ কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের ‘যৌক্তিক সমাধান’ খুঁজতে জাতীয় স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিরোধী দলকেও পাঁচজনের নাম দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কমিটির প্রধান হবেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু এবং এতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক পাঁচজন করে সদস্য থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের প্রস্তাব ও পরামর্শ এই কমিটির মাধ্যমে সরকারের কাছে যাবে। সেখানে বাস্তবসম্মত কিছু থাকলে সরকার তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে।

সংসদ নেতা বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। যার প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে সরকার যে কারও সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। বিএনপি সকল সময় দেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোন আলোচনা যে কারো সঙ্গে করতে প্রস্তুত রয়েছে।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করছি। আমি আপনার মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধী দলকে অনুরোধ করব উনারাও যদি পাঁচ জনের নাম দেন তাহলে এই ১০ জন ব্যক্তি বসে এই বিষয়গুলো আলোচনা করতে পারে।

সংসদ নেতা আরো বলেন, কোন পরামর্শ থাকলে এই কমিটির মাধ্যমে সেটি সরকারের কাছেও আসলো এবং সরকার সেটার মধ্যে কোন বাস্তবতা থাকলে অবশ্যই সেটি কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে ঘোষিত পাঁচ সদস্য হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মইনুল ইসলাম খান শান্ত এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

পরে তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশ যাতে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পারে, সেজন্য জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে সভাপতি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এর আগে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সঙ্গে বসে সমাধান খোঁজার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কিছু পরামর্শ আছে, সেগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার সেই প্রস্তাবের জবাবেই সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন এবং বিরোধী দলকে সমসংখ্যক সদস্য দিতে অনুরোধ জানান।

সংসদ নেতার এই ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমাম বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি এই সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাল্লাহ। তিনি আরও বলেন, আমরা শিগগিরই নামগুলা পেশ করব।

ছাত্রলীগ ‘জয় বাংলা’ বলে হামলা করত, শিবির করে ‘নারায়ে তাকবির’ বলে

ছাত্রলীগ যেমন জয় বাংলা বলে হামলা করত, ছাত্রশিবিরও তেমন নারায়ে তাকবির বলে হামলা করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খান। ছাত্রদল কোনো রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ করতে গেলে শিবির সেটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তার।

আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

তিনি বলেন, “আগে ছাত্রলীগ হামলা করত ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে, এখন ছাত্রশিবির হামলা করা শুরু করেছে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ বলে। এই স্লোগান মুখে নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী কলেজে শিবির তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালিয়েছে।”

প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হয়ে ছাত্রশিবিরের দাপট দেখা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশ ধারণ করে ক্যাম্পাস দখল করে রেখেছে ছাত্রশিবির। ছাত্রদল কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ করতে গেলে সেটাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।’

জাতীয় নির্বাচনের জামায়াতের পক্ষে ভোট চাওয়ার মাধ্যমে শিবির নেতারা সংগঠনটিকে লেজুড়ভিত্তিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে প্রমাণ করেছেন বলে দাবি রাশেদ খানের। তিনি বলেন, ‘ডাকসুসহ সব ছাত্রসংসদকে নিজেদের কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছে ছাত্রশিবির।’

রাশেদ খান বলেন, “জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি এমন যে ওদের সমালোচনা করলে বটবাহিনী লেলিয়ে দেয়। সেটাও না হয় মানা যায়, কিন্তু আজকে দেখলাম হামলার সময় ‘নায়ারে তাকবির, আল্লাহু আকবর’-এর মতো পবিত্র স্লোগানকে ব্যবহার করে বিতর্কিত করার চূড়ান্ত রকমের অপচেষ্টা করল ছাত্রশিবির।”

ঢাকায়ও লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং করতে সরকার বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’

গ্রামের কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তারা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, বুধবার (২২ এপ্রিল) বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট অথচ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দিনে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি; তাই লোডিশেডিং করতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারি-বিরোধী দল এক হয়েছে জানিয়ে অমিত বলেন, ‘গতকাল জ্বালানি বিষয় নিয়ে সরকারি দল এবং বিরোধী দল বিশদ আলোচনা করেছে। এই আলোচনার সবচেয়ে বড় অর্জন যে টোন সেট হয়েছে, অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনা করার। যার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা জাতির জন্য নতুন পথের দিশা হয়ে থাকবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সাপ্লাই নিশ্চিত করার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করে পরামর্শ গ্রহণ করেছি।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com