জনতার প্রতিধ্বনি

জনগণের কণ্ঠস্বর

চবির বিভিন্ন দেয়ালে ফের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পোস্টারগুলো লাগানো হয়েছে বলে ধারণা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ছাত্রলীগের এ পোস্টারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়ি, পুরাতন আইএর, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স, চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন দেয়ালে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলা ঝুপড়ির এক দোকানি বলেন, আমি সকাল ১০টায় দোকানে এসে দেখি দেয়ালে ছাত্রলীগের একটা পোস্টার লাগানো রয়েছে, আর একটি পোস্টার অর্ধেক ছেঁড়া। পরে শিক্ষার্থীরা ঝুপড়ির বাকিসব পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলে।

পোস্টারগুলোতে ‘ফ্যাসিস্ট নয় বাংলাদেশের আর্টিস্ট শেখ হাসিনা’, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নামে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে’, ‘নিষিদ্ধ নগরীতে নিষিদ্ধ তুমি, নিষিদ্ধ ভালোবাসায় আসক্ত আমি’, ‘রাজবন্দিদের মুক্তি ও সব রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে’, ‘নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত ড. ইউনূসের হাতে’, ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’, ‘আওয়ামী লীগ ছিল আছে এবং থাকবে… জয় বাংলা’, ‘এই ষড়যন্ত্র রুখে দাও, না হয় আরো বিপদ সন্নিকটে’ প্রভৃতি লেখা দেখা যায়। পোস্টারগুলোর নিচে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ’ লেখা রয়েছে।

জানতে চাইলে চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা পোস্টারিং ও গুপ্ত তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতু সংগঠনটি আইনত নিষিদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে তাদের ক্যাম্পাস থেকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই এ ধরনের কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে না। চাকসুর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজরে আনা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই।’

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘একটি সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও যদি তারা কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তবে একজন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। তবে আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিলে এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হলে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা এমন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহস পেত না।’

শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘আগেও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমরা প্রক্টর অফিসে গিয়েছিলাম। প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ভিসিকে অবহিত করেছিলাম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বরং তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের নির্বিকার মনোভাব লক্ষ করা গেছে।’

পারভেজ অভিযোগ করেন, প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ছাত্রলীগের গোপনে থাকা সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে, যারই একটি অংশ আজকের ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছি। তবে তার আগে আবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যাব এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করব আমরা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, কলা ঝুপড়ি এলাকায় পোস্টার লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা পোস্টার টানিয়েছে বা কাকে কেন্দ্র করে এটি করা হয়েছে এ বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট স্থানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরাই এ কাজটি করেছে।’

এর আগে গত ৬ এপ্রিল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট ওয়াশরুম, লেডিস ঝুপড়ি ও কলা ঝুপড়ির দেয়ালে গোলাম আজমকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার দেখা যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com